প্রচ্ছদ সাহিত্য ও সংস্কৃতি মধ্যরাতের ছায়ামানব

মধ্যরাতের ছায়ামানব

পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার পর গ্রামের এক প্রসিদ্ধ হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলাম। সেটা ছিল ঠিক বাজারের মধ্যখানে। দোতলায় ওঠার একমাত্র সিঁড়িটা ছিল পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো লোহার রেলিং এবং কাঠের পাটাতনের। আমাদের সঙ্গের একটি ছেলে প্রতিদিন নিয়ম করে দুপুরবেলা খাওয়ার আগে বা পরে ওই সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামার সময় পড়ে পায়ে ব্যথা পেত আর ওপরে সিঁড়ির মুখে বসে বসে কাঁদত। মাঝেমধ্যে দোতলার পশ্চিম দিকের বারান্দা লাগোয়া সানশেডে বসেও পা ঝুলিয়ে কিছু সময় আকুল হয়ে কান্না করত।

এমন অনেক কারণে, কিছুদিনের মধ্যে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পেতে থাকে। এমনই সময় একদিন মধ্যরাতে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। প্রায় দেড় যুগ আগের ঘটনা, তখন ঘড়ি-মোবাইলের অতটা চল ছিল না, তাই সঠিক সময় বলতে পারব না। তবে রাত ২টা-৩টার কম নয়। আমাকে ডেকে ও বলল, ‘ভাই, মা আইছে। মায়ের লগে দেখা করমু।’ বলেই সে বাচ্চাদের মতো খটখট করে হাসতে লাগল। বয়সে আমরা সমসাময়িক হলেও পড়াশোনায় বড় বলে আমাকে সে ভাই ডাকত।

মধ্যরাতে তার এ রকম পাগলামি দেখে রাগ হলো। ধমক দিয়ে বললাম, ‘মায়ে আইছে বইলা এ রকমভাবে হাসার কী হলো!’

আমার কথায় ওর মধ্যে কোনো বিকার নেই, আগের মতোই হেসে বলল, ‘চলেন তাড়াতাড়ি, মা আবার চলে যাবে, চলেন ভাই, চলেন…’।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, ওর বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়েছিল তার শৈশবের সময়। তার বাবা নতুন বিয়ে করে আগের ঘরের ও নতুন পক্ষের ছেলেমেয়েদের নিয়ে মিলেমিশেই থাকত। তাদের মা রাতে গোপনে এসে দেখা করে আবার বাপের বাড়ি চলে যেত।

এ রকমভাবে তার মা দেখা করতে এল কি না, সেটা ভেবে দরজা খুলে ঘুমের ঘোরে একা একাই তার সঙ্গে বারান্দায় গেলাম। নিস্তব্ধ রাত। সে শুধু ওই সানশেডের দিকে যাচ্ছিল। নিচের লাগোয়া ঘরটা ছিল ধানের গুদাম, তার পেছনে একটা মধ্যম সাইজের আমগাছ। সে আমগাছটা দেখিয়ে বলতে লাগল, ওই যে আমার ‘মা’।

তখনই আমার ঘুমের ঘোর কাটে। একসময় সে দুহাত ওপরের দিক দিয়ে উড়াল দেওয়ার ভঙ্গি করে নিচে লাফ দিতে চায়। উড়াল দেওয়ার চেষ্টা এর আগেও একবার করেছিল। কোনো দিকে না তাকিয়ে তার এক হাত ধরে আরেকজনের সহযোগিতায় ভেতরে আনলাম। অন্য ছেলেদের জাগিয়ে তুলে শুইয়ে দিয়ে ওর মাথায় পানি দিতে বললাম তাদের।

ওই যে বললাম, অন্যের সহযোগিতায় তাকে ভেতরে আনলাম, কিন্তু দরজা বন্ধ করার পর মনে হলো, আরে, সে তো আসেনি। সে আমার চেয়ে গায়ে-গতরে অনেক বড়, তাকে কিছুতেই আমার পক্ষে একা টেনে আনা সম্ভব ছিল না। তাই আবারও একা গেলাম বারান্দায়। ওই তো সাদা জামা পরা ব্যক্তিই আমাকে সাহায্য করেছিল। লোকটাকে আগেও কোথায় দেখেছি বলে মনে হলো, তবে পুরোপুরি স্মরণ করতে পারছিলাম না। প্রায় সানশেডের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে তিনি। চাঁদের আলো এবং পেছনের সাদা চুনকাম করা দেয়ালের সঙ্গে তার লম্বা জামাটা চকচক করছিল…। বললাম, আসুন না ভেতরে। উনি কিছু না বলে হেসে একটু পিছিয়ে গেলেন। ঠিক তখনই আমার কেমন যেন ভয় লাগতে শুরু করল; শীতল এক শিহরণ শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নেমে গেল।

কিছুক্ষণ পর মনে হলো, সাদা দেয়াল ছাড়া সামনে কেউ নেই। পরের ঘটনা আর কিছু মনে নেই। এরপর অনেক দিন রাতে একা একা ঘুমাতে পারতাম না। মনে হতো, কেউ যেন পাশ থেকে আমাকে নিয়ে যাচ্ছে।

না’গঞ্জে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ২৬, মোট ৫ হাজার ৬১৮ জন

দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত...
error: Content is protected !!

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/thebanglaexpress/public_html/wp-includes/functions.php on line 4609