প্রচ্ছদ অর্থনীতি হদিস নেই রেলওয়ের ১ হাজার ৮৭১ একর জমির

হদিস নেই রেলওয়ের ১ হাজার ৮৭১ একর জমির

বাংলাদেশ রেলওয়ের রেকর্ডে থাকা জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ একর। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭১ একর জমি খুঁজে পাচ্ছে না সংস্থাটি। এসব জমির কোনো নথি রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগেও নেই। মূলত নথি না থাকার কারণেই জমিগুলো চিহ্নিত করে উদ্ধার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

২০০৭ সালে জমিজমা আধুনিক পদ্ধতিতে জরিপ করে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ওই বছরই আধুনিক পদ্ধতিতে জমির জরিপ করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে নিয়োগ দেয়া হয়। কাজটি করে দেয়ার জন্য শেলটেকের সঙ্গে ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার চুক্তি করে রেলওয়ে। ২৪ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ২০১৪ সালে এসে জরিপ চূড়ান্ত করে তারা। এখন পর্যন্ত রেলওয়ের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি শেলটেক। তবে জরিপকৃত জমির একটি সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তারা।

শেলটেকের জমা দেয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৬০৬ একর। কিন্তু এর মধ্যে জরিপ করে তারা জমি খুঁজে পেয়েছে ৫৯ হাজার ৭৫৫ একর। ১ হাজার ৮৭১ একর জমির কোনো তথ্য শেলটেক বের করতে পারেনি। এর মধ্যে পূর্বাচল রেলওয়েতে খোঁজ মিলছে না ৪৪৭ একর জমি। বাকি ১ হাজার ৪১৪ একর জমি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যার সিংহভাগই লালমনিরহাট এলাকায়। ২০১১-১২ সালে জরিপটি পরিচালনা করে শেলটেক।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের রেকর্ড অনুযায়ী, রেলের জমি বৃদ্ধি পেয়েছে আরো ২৫৪ একর। সব মিলিয়ে জমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮৬০ একর।

অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নথি গায়েব করে একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে। এজন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কমলাপুরের ভূমি অফিসে একাধিকবার আগুন লাগার ঘটনাকে। এর বাইরে রেল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মালিকানা বিরোধ সম্পর্কিত একাধিক মামলায় রেলওয়ে হেরে গেছে বলে অভিযোগ মিলেছে। আবার কোথাও কোথাও রেলওয়ের গাফিলতিতে সংস্থাটির জমি চলে গেছে ব্যক্তিমালিকানায়।

দীর্ঘদিন ধরে রেলের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান। তার অভিযোগ, রেলের জমি জোরজবরদস্তি করে দখল করে নেয়া হয়েছে। আর এটা হয়েছে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, মাঝেমধ্যে কমলাপুরের ভূমি অফিসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আর যখনই আগুন লাগে, তখনই গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যায়। আসলে এটার সঙ্গে বিশাল একটা চক্র কাজ করছে। সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য রেলের আলাদা একটা বিভাগই আছে। এ বিভাগ থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ জমি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ মিলছে। এটা কিন্তু সম্পূর্ণভাবে রেলওয়ের ব্যর্থতা। জমিগুলোকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনলে রেলের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস হতে পারত এসব সম্পত্তি।

বণিক বার্তার অনুসন্ধানেও এমন অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে। সিএস খতিয়ান অনুযায়ী, গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকার মূলগাঁও মৌজায় ৪৯ দশমিক ২৬ একর জমি ছিল তত্কালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের মালিকানায়, যা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানায় আসে। তবে আরএস খতিয়ানে ওই জমির ৩ দশমিক ৫২ একর নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন ১৮ ব্যক্তি।

টঙ্গী-ভৈরব রেল রাস্তার বিপুল পরিমাণ জমি সিএস খতিয়ানে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের নামে থাকলেও আরএস খতিয়ানে তা চলে গেছে ব্যক্তিমালিকানায়। শুধু গাজীপুরেই রেলের প্রায় ৫০ একর জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে।

রেলওয়ের গাফিলতিতেই এসব জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রেলওয়ের জমিগুলো যে সময় জরিপ করা হয়েছিল, সে সময় শেলটেক কনসালট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন আফসানা এম কামাল। তার নেতৃত্বেই রেলওয়ের জমিগুলো আধুনিক পদ্ধতিতে জরিপ ও ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজটি হয়েছে। ‘হারিয়ে যাওয়া’ জমির বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আফসানা এম কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা রেলওয়ের জমিজমা আধুনিক পদ্ধতিতে জরিপ করেছি। সেই প্রতিবেদন রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। তবে আমরা ১ হাজার ৮৭১ একর জমির কোনো তথ্য পাইনি। পরবর্তী সময়ে এ ১ হাজার ৮৭১ একর জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (দাগ নম্বর, মৌজা নম্বর, খতিয়ান ইত্যাদি) আমরা রেলওয়ের কাছে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো তারা আমাদের সরবরাহ করতে পারেনি। কাগজপত্র ছাড়া এ জমির তথ্য বের করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, রেলের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমরা সব কাজ শেষ করেছি। আধুনিক পদ্ধতিতে জমির জরিপ করার পর সেগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করেছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক প্রশিক্ষণও আমরা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি এখনো দেয়া হয়নি। ২০১৫ সালের পর থেকে চুক্তি অনুযায়ী আমাদের কোনো বিলও রেলওয়ে পরিশোধ করেনি।

এদিকে শেলটেকের জরিপটি ‘যথাযথভাবে হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এজন্য তারা শেলটেককে বাদ দিয়ে নতুন পরামর্শক নিয়োগ করে পুনরায় জমিজমা আধুনিক পদ্ধতিতে জরিপের পরিকল্পনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, সারা দেশে রেলের যেসব জমি আছে, সবগুলো রেলওয়ের মালিকানাতেই আছে। যে ১ হাজার ৮৭১ একর জমির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোও রেলওয়ের মালিকানাতেই আছে।

রেলওয়ের জমিগুলোকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেলের সিংহভাগ জমিই ব্রিটিশ আমলের। এর পর সরকারিভাবে জমির একাধিক সার্ভে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, রেলের কোথায় কী পরিমাণ জমি আছে, সেটা জরিপ করে একটা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করতে। এজন্য আমরা ২০০৭ সালে শেলটেক কনসালট্যান্টকে নিয়োগ করেছিলাম। তারা কিছু কাজও করে দিয়েছে। তবে আমরা তাদের কাজে সন্তুষ্ট নই। পরিকল্পনা করছি, নতুনভাবে ও নতুন পরামর্শক কোম্পানি নিয়োগ করে শিগগিরই রেলওয়ের সব জমির জরিপ সম্পন্ন করে সেগুলো ব্যবহারের একটা আধুনিক কাঠামো গড়ে তোলার।

বিপুল পরিমাণ জমি ‘হারিয়ে যাওয়া’র বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

না’গঞ্জের যানযট ও ফুটপাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করলো মন্ত্রী ও এমপি

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের মোড় সাইনবোর্ড এলাকায় ফ্লাইওভার প্রয়োজন্।পাশাপাশি ফ্লাইওভারের নিচের অংশে দেওয়াল ঘেরাও করে দেওয়া প্রয়োজন।এটা না...
Shares