Sunday, September 27, 2020
প্রচ্ছদ রাজনীতি বিরোধী দল দলের স্বার্থে এবার সাখাওয়াতকে কামালের খোলা চিঠি

দলের স্বার্থে এবার সাখাওয়াতকে কামালের খোলা চিঠি

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সংগঠনটির সহ-সভাপতি এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে খোলা চিঠি দিয়ে আহবান করেছেন দলের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে।করতে।বুধবার (২১ আগষ্ট) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটি তার ব্যাক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এ আহবান করেন।

পাঠকদের সুবিদার্থে হুবুহু প্রকাশ করা হলো, Shakhawat Hossain Khan আপনার Comments ও শুভ কামনা এবং আমার পরিবারের প্রতি আপনার সহমর্মিতার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা ভাই, আমি কিন্তু বলিনি আপনি আমাকে হটাতে চান, এটা একটা পোর্টালের প্রতিবেদন।নাঃগঞ্জ মহানগর বিএনপি ও তার সভাপতি,সাধারন সম্পাদক কে ড্যামেজ করে অনেক নিউজ আপনার ওয়ালে আমি দেখেছি যা আপনি শেয়ার করেছিলেন,এবং সেগুলোও আমাকে মর্মাহত করছিল।

বার বার আপনাকে অনুরোধ করা সত্বেও মহানগর বিএনপি’র জৌষ্ঠ সহসভাপতি হয়ে সবার সাথে কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন নি, উল্টো মহানগর বিএনি’র ব্যানারে আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করেছেন যা দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী। কোন কারনে যদি আপনার মনে হয় এই কমিটি স্বীয় দায়ীত্ব পালনে ব্যার্থ তাহলে আপনি কেন্দ্রে অভিযোগ করতে পারেন কিন্তু সংগঠনের ব্যানারকে এভাবে আলাদা করা কতটুকু নৈতিক হয়েছে ভেবে দেখবেন। আমরা কখনোই আপনাকে বাদ দিতে চাইনি, আপনি নিজেই নিজেকে আলাদা করেছেন বারবার, যা আপনার বিভক্ত কর্মকান্ডে প্রমানিত।

ব্যাক্তিগতভাবে আমি ও আমার পরিবার আপনার কাছে ঋনী, গত এক যুগে নয়বার গ্রেফতার হয়েছি, অসংখ্য বার রাজপথে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, বিভীন্ন মেয়াদে প্রায় সারে তিনবছর কারাগারে ছিলাম , বিশেষ করে শেষবারে যখন প্রায় আটমাস আমি কারবন্দী, সেমময় আমার জামিনের জন্যে আপনি বারবার চেষ্টা করেও পারছিলেননা, তখন আমার স্ত্রী আপনার চেম্বারে গিয়ে আপনার হাতে একটি খাম দিয়েছিল হাইকোর্ট থেকে বেইল করানোর জন্য ,আপনি তা বিনয়ের সাথে ফেরৎ দিয়ে বলেছিলেন ,কামালভাই আমার ভাই ,তার জন্য আপনার চিন্তা করতে হবেনা, যাকিছু করতে হয় আমিই করবো, আপনি আপনার কথা রেখেছিলেন, আপনি স্বউদ্যোগে হাইকোর্ট থেকে আমার জামিন করিয়েছিলেন।

আমি ও আমার পরিবার সবসময়ই আপনি সহ আদালতে যারা আমাকে আইনি সহযোগীতা দিয়ে দুঃসময়ে পাশে দাড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমরাও আপনার পরিবারের শুভকামনা করি, আমৃত্যু আল্লাহর নিকট আপনাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করবো। ভালো থাকবেন ভাই, তবে শেষে একটি কথা বলছি , দলের স্বার্থে ভেবে দেখবেন, নেত্রী কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাসিত, দলের এখন চরম দুঃসময়, এখন ঐক্যবদ্ধ্য থাকার বিকল্প নেই।আপনি কি বলবেন আমি নিজেইতো কেন্দ্রে একাধিকবার জানিয়েছি, ডজন ডজন মামলায় আমি পরিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, দীর্ঘদিন করাবাস ও বেশ কয়েকবার রাজপথে পৈশাচিক নির্যাতনে দিনের পর দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও সম্পুর্ন সুস্হ হতে পারছিনা,পুলিশী নির্যাতনের ক্ষত মাথা থেকে পা পর্যন্ত বয়ে চলছি,যন্ত্রনায় রাতে ঘুম হয়না, ভাঙ্গা শরীর নিয়ে রাজপথে বা করাগারে থাকার যোগ্যতাও আর আগের মত নেই।

যুদ্ধের ময়দানে আহত সৈনিকরাতো সবার বোঝাই হয়ে যায়, দল ও পরিবারের বোঝা হতে চাইনা, তাই চলে এসেছি, দলের স্বার্থে যদি আমাকে বাদ দিতে হয় দিন, আমাকে একবার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেছিল সম্মেলনের মাধ্যমে তৃনমূল কর্মীরা, মহানগরের সাধারন সম্পাদক করেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।আজ পরিবেশ পরিস্হিতি আমাকে বাধ্য করছে এই সেচ্ছা নিার্বসনে, আজ একারনে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় অনেক দায়ীত্বশীল নেতাই প্রবাসে অবস্হান করছেন।স্হায়ীভাবে থাকতে এখানে আসিনি প্রয়োজনে এসেছি, সময় সূযোগ মত ঠিকই ই ফিরে আসবো, তবে দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি,দলের স্বার্থে জীবনকে তুচ্ছ করেছি, পদতো সেখনে কোন মানেই রাখেনা। তবে তোষামোদ বা কারোর করুনায় কিছু চাইনা, এরচেয়ে চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়।