Sunday, September 27, 2020
প্রচ্ছদ লিড ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

ফতুল্লায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে অবস্থিত ফতুল্লা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডক্টর ডায়াগনেষ্টিক ল্যাব এ চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ৩ দিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ( ২০ অক্টোবর ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা মাসুম মিয়া বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তা নেয়নি থানা পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, তাদের সাথে ক্লিনিকের চিকিৎসকরা দুঃব্যবহার করে বের করে দিয়েছে। নবজাতকের মৃত্যুর জন্য ক্লিনিকের চিকিৎসকদের অবহেলাকেই দায়ি করছেন তারা।

ভুল চিকিৎসায় মৃত শিশুর নানী জানান, বুধবার বিকেল ৪টায় ফতুল্লার মোস্তাফিজ সেন্টারে অবিস্থত জেনারেল হাসপাতালে তার মেয়ে পিংকিংকে ভর্তি করানো হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এ ঘটনার পর থেকে নবজাতক শিশুর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি ঘটলে ক্লিনিকটির চিকিৎসকরা জোর করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে রোগিকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রাত গভীর হওয়ায় সম্ভব হয়নি। রোববার ভোরে রোগির অভিভাবকরা প্রথমে শহরের ৩শ শয্যা হাসপাতালে পরে মাতুয়াইল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেয়ার পথে নব যাতকের মৃত্যু হয়।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিহত নবজাতকের বাবাসহ অন্যান্য স্বজনরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর ( আইসিপি) মো.আজগর জানান,অভিযোগ নয় মামলা করতে হবে এবং মামলা হলে এ শিশুটির পোষ্টমর্টেম করানো হবে এমন ভীতি দেখালে নিহত নবজাতকের স্বজনরা মামলা বা অভিযোগ করা থেকে পিছিয়ে যান।

সেখানে উপস্থিত স্বজনদের অনেকেতই পুলিশকে বলেন,স্যার একটি অভিযোগ দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটু কঠোর হলে আমাদের মতো আরও কাউকেও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হবেনা। স্বজনদের কোন প্রকার কথাই কর্নপাত করেনি ইন্সপেক্টর আজগর। পরে তার নির্দেশে একটি আপোষনামা বা অঙ্গীকার নামা তৈরী করানো হয় নিহত নবজাতকের পিতাকে দিয়ে।

অপরদিকে নিহত নকজাতকের অনেক স্বজন ক্ষোভের সহিত বলেন,আমরাতো জানি শিশু বাচ্চাকে কখনও কোন পোষ্টমর্টেম করানো হয়না কিন্তু বর্তমানে এখানে মামলা বা অভিযোগ করাতে এসে নতুনভাবে কিছু জানলাম। তারা আরো বলেন,একটি রোগীকে ইনজেকশন পুশ করতে হলে তার হাতে ক্যানোলা লাগিয়ে দিতে হয় কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃঈক্ষ তা ব্যবহার করেনি শিশুর ক্ষেত্রে। শিশুটির কোমল হাতের রগে রগে একাধিক ইনজেকশন পুল করাতেই ওর মৃত্যু হয় এবং ইনজেকশন দেয়ার স্থানটি পুরোপুরি নীল রংয়ে ছেয়ে যায়।

সেই বিষয়টিও ভালভাবে জানতে থানা পুলিশ সেই হাসপাতালে গেলেন না। বরং উল্টো আমাদেরকে দিয়ে একটি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন নিজেদের দায় সারাতে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আসলাম হোসেন বলেন,আমি শুনেছি একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে একটি হাসপাতালে। থানায় শিশুটির লাশ নিয়ে এসেছিলো তার স্বজনরা। কিন্তু তারা মামলা বা অভিযোগ করতে চায়নি বলে লাশটি নিয়ে যায়।

আপনার ইন্সপেক্টর আজগর তাদেরকে মামলা করতে হবে এবং তা করলে শিশুটির পোষ্টমর্টেম করাতে এমন ভীতি স্বজনদেরকে দেখালে তারা তা করেনি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,অভিযোগ নেবেনা কেন অবশ্যই নিতে হবে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখবো।

উল্লেখ্য, এই ক্লিনিকে কিছুদিন আগেও রক্তের ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া প্রায় সময়ই এই ক্লিনিকে রোগিদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরক্ষায় ভুল রিপোর্ট দেয়া হয়ে থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ক্লিনিকটি বহুল ভবনে হলেও লিফটের কোন ব্যবস্থা নেই। যদি ২য় তলার উপরে কোন ক্লিনিক থাকলে লিফট সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, মোস্তাফিজ সেন্টার কর্তৃপক্ষ তা মানছেন না এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী মহলের। এ ব্যাপারে সিভির সার্জনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।

রাজপথে আন্দোলন করে মামলা খেতে রাজি আছি: মোস্তাফিজুর রহমান

দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকম: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রিয়...