Sunday, September 27, 2020
প্রচ্ছদ শহরতলী সোনারগাঁয়ের কানুনগো’র খুটির জোড় কোথায় ?

সোনারগাঁয়ের কানুনগো’র খুটির জোড় কোথায় ?

সোনারগাঁয়ের কানুনগো মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে আছে এই দুর্নীতির বরপুত্র।  বর্তমান নারায়নগঞ্জের সৎ ও যোগ্য জেলা প্রশাসকের সুনাম ধ্বংশ হচ্ছে সোনারগাঁয়ের কানুনগোর বিতর্কিত কর্মকান্ডে। তবে, সোনারগাঁয়ের কানুনগোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় হলেও এখনো পর্যন্ত তার দুর্নীতির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত কানুনগোর দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ  তদন্ত না হলে দুর্নীতি ও অনিয়মকে আরো উৎসাহিত করা হবে বলে মনে করে স্হানীয়রা।

 স্থানীয়রা জানায়, বর্তমান সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুর্নীতির বরপুত্র সোনারগাঁয়ের কানুনগো মো. মতিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। তাকে গ্রেফতার করলে বেড়িয়ে আসবে অনেক রাগব-বোয়ালের নাম।

এমনকি, মেঘনা নদী খেকোদের সকল তথ্যসহ বেড়িয়ে আসবে উধ্বতন কর্মকর্তাদের ফিরিস্তি এবং কত টাকার বিনিময়ে পুরো মেঘনা নদী দখলে সহযোগী করেছে তা সম্পর্কে জানা যাবে। উপজেলার মেঘনা ঘাট থেকে বারদী পর্যন্ত মেঘনা তীরভূমি দখল করেছে কয়েক শত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তাদের সহযোগীতা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কানুনগো। এছাড়াও, সোনারগাঁও ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীও বর্তমানে টাকার কুমিরে পরিনত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না এ অফিসে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. মতিয়ার রহমানের মাসিক আয় কোটি টাকার উপরে। এই কানুনগোর বিরুদ্ধে অনিয়মকে নিয়ম করে ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে ভূমি সচিব এবং দুদকের সচিবের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো সোনারগাঁও। বিগত কয়েক বছর সোনারগাঁয়ে চাকরি করে হয়ে গেছেন টাকার কুমির। কানুনগো মো. মতিয়ার রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতি অবিলম্বে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্হানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, সোনারগাঁয়ের কানুনগো পদে যে চাকরি করেছেন, সেই হয়েছে টাকার কুমির। টাকার নেশায় বিগত কয়েক বছর পূর্বে সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসের এক কানুনগো মোবাইলে ঘুষ চায় ঢাকা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। বর্তমান কানুনগো তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি ঘুষ নিচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

সোনারগাঁয়ের কানুনগোর কত ক্ষমতা:

 কানুনগো মো. মতিয়ার রহমান নিজেকে ভুমি সচিব ও দুদকের সচিবের  আত্মীয় পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুসাইনের নাম ব্যবহার করে উপজেলা ভূমি অফিসের একচ্ছত্র নিয়স্ত্রক তিনি। তার কথার বাইরে চলতে পারে না কেউ, সার্ভেয়ার, নামজারী সহকারী, প্রধান সহকারি ও নাজির কাম ক্যাশিয়ারকে তার কথার বাইরে গেলে বদলির হুমকি দেয় এই কর্মকর্তা। কানুনগোর দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ভয়ে ভূমি অফিসের কেউ মুখ খোলতে পারে না। এদিকে, দুর্নীতি ও অনিয়মের বরপুত্র কানুনগো মো. মতিয়ার রহমান ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ও স্থানীয়দের দেখিয়ে দৈনিক কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়বার ফোন করে ভূমি সচিব ও দুদকের মহাপরিচালক এবং দুদকের সচিবকে। যদি কেউ এই গুনধরের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করবে বললে, তিনি উল্টো দুদকে ফোন করে অভিযোগকারীকেই দুদকে বেঁধে রাখতে বলে। তাই স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার সাহস পায় না। তবে, তিনি প্রকৃতপক্ষে কার সাথে ফোনে কথা বলেন দুদকের সচিব ও মহাপরিচালের নাম ব্যবহার করে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

মাসিক কত টাকা আয় কানুনগো মতিয়ারের:

প্রতি মাসে কোটি টাকার উপরে আয় কানুনগো মতিয়ারের।  সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী, নদীর তীরবর্তী ভূমি, খাস সম্পত্তি ও ফোরসোর ল্যান্ডভূক্ত ভূমি এবং জোরপূর্বক ও ভূয়া দলিল করে দখলকারী একটি কোম্পানীর কানুনগোর সাথে গভীর সম্পর্ক মতিয়ারের। আর সোনারগাঁও ভূমি অফিসের কানুনগো মতিয়ারের মাধ্যমে খাস সম্পত্তি  ও ভূয়া এবং সৃজিত দলিলে   নামজারী করছে কোম্পানীটি। আর এই নদীখেকো কোম্পানীর পক্ষে সরকারি স্বার্থ নষ্ট করে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন কানুনগো মতিয়ার। কানুনগো মো. মতিয়ার রহমানের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় কয়েক হাজার একর নদীর জমি দখল করেছে নদীখেকো বিভিন্ন কোম্পানী। এছাড়াও, ভূয়া দলিল, দখলে সমস্যা, দেওয়ানী মামলা যাই থাকুক না কেন, কানুনগো মতিয়ারকে  টাকা দিয়ে সব কাজ সম্ভব সোনারগাঁও ভূমি অফিসে। বিবিধ মোকদ্দমার তদন্তে বিশাল টাকা নেন, কানুনগো মতিয়ার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভূক্তভোগী জানায়, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিযোগ করার পর এখনো তাকে দুদক থেকে ডাকা হয়নি।

এদিকে, কানুনগো মতিয়ার রহমানসহ পুরো ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের হট লাইনে একজন অভিযোগকারী বলেন, আমি সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের হটলাইনে মৌখিক অভিযোগ করেছি। আমি পুরো ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছি। দুদক থেকে খুব গুরুত্ব সহকারে অভিযোগগুলো শুনেছেন, আশা করি আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করবে দুদক।

স্থানীয় সাংবাদিক আনিছুর রহমান আলমগীর জানায়, সোনারগাঁও ভূমি অফিসে টাকা লেনদেনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। টাকা ছাড়া কোন কাজই হয়না এ অফিসে। প্রতিটি টেবিলে টেবিলে প্রকাশ্যে টাকা নেয়া হয় এসি ল্যন্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে। সোনারগাঁয়ে যখন দুদক গনশুনানী করেছে, তখন সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিলো ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে। অবিলম্বে ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধ করা হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কানুনগো মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমি ৩ বছর যাবত এখানে কাজ করছি। এ তিন বছরে কারও কাছ থেকে এককাপ চা খাইন। আমি এখানে এসে তদৗল্প করে দেখেন আমার কোন ভুল আছে কিনা। তাছাড়া মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলঅকার জমি দেখভালের দ্বায়িত্ব আমার উপর বর্তায় না।

স্থানীয়রা কানুনগো মতিয়ার রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।