25 C
Nārāyanganj
শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২১

না’গঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন

দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকম: ‘গতিশীল মেনে চলি, সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করি’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস  পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার ( ২২ অক্টোবর ) সকাল দশটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা বিআরটিএ’র আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন  বিল্লাহ। এসময়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালী বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেছেন, আমরা চাই সারাদেশটাই নিরাপদ থাকুক। আমাদের ট্রাক ও বাস চালক তিনিও কিন্তু বাড়ি ফেরার সময়ে গাড়ি উঠে। আমি নিজেও অফিস শেষ করে গাড়িতে উঠি । পরিবার পরিজন নিয়ে চলাচল করি। নিরাপদ সড়ক চাই প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে এটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা সবাই মিলে একটি টিম নারায়ণগঞ্জ। আমরা চাই না কোন মালিক তার গাড়ি নিয়ে একটি দুর্ঘটনায় পরুক। কারণ তিনি বহু কষ্ট করে একটি গাড়ি করেছেন। আমরা চাই না কোন শ্রমিক ভাই তার সারাদিনের কষ্ট উপার্জিত টাকা পয়সা দিয়ে জুয়া  খেলুক বা মাদক সেবন করে খরচ করুক। তার যে ফুটফুটে বাচ্চার রয়েছে অনাগত ভবিষ্যৎ আমরা চাই সেই ছেলেটি ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ও ডাক্তার হোক।

তার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে মাদক জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থা দিনে দিন পরিবর্তন হচ্ছে। কারণ একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। আসলে যার যাঢ সেই কিন্তু জানে। প্রতিনিয়তই কিন্তু এসব দুর্ঘটনা ঘটছে ।

এ সকল দুর্ঘটনা আমাদেরকে দারিদ্রতা করে এবং ভাবিয়ে তোলে আমরা কি কমের দিকে যাচ্ছি নাকি বেশি দিকে যাচ্ছি। দেশ যখন উন্নতির দিকে এগিয়ে যায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা তখনই আরো উন্নত হয়। যানবাহনের সংখ্যা কিন্তু বাড়তে থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বের সব দেশেই আছে। গাড়ি মালিকরা শ্রমিকদের বাধ্য করে তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। তাড়াহুড়া করে গাড়ি চালাতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট ঝুঁকিতে পড়তে হয় চালককে। কারন গাড়ির মালিক তার ব্যাংক লোন শোধ করতে হবে বেশি বেশি টাকা উপার্জন করতে হবে তার জন্য ড্রাইভার উপরে বেশি বেশি করে চাপ প্রয়োগ করে।

তিনি বলেন, আমাদের বিআরটিএর মধ্যেও গাফিলতি আছে। পুলিশের মধ্যেও কিছু সমস্যা রয়েছে। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটও মোবাইল কোট কম করে। সবারেই কিন্তু এক জায়গা থেকে কিছু কিছু সমস্যা আছে। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জে সবার জায়গায় যে একটু একটু করে সমস্যা আছে সে জায়গা থেকে যদি আমরা একটু কমিয়ে আনতে পারি ।

নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। আমরা যতই বলি নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক হানাহানি থাকতেই পারে কথায় কথায়। আমাদের ঐতিহ্য আছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি আছে। আমার এখানে সারাদেশে ৬০% খাদ্যের চাহিদা আমাদের এখান থেকেই সরবরাহ হয়। আমাদের যারা রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন তারা দেশকে কাঁপিয়ে চলেন। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে আমাদের নারায়ণগঞ্জের যে ট্রাফিক সিস্টেমটা বাড়তে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ হতে পারে। মালিক ও শ্রমিক ভাইয়েরা আমরা সবাই এক হতে হবে। আমি মালিক- শ্রমিক ভাইদের প্রতি আহ্বান আপনাদের সন্তানটি যেন ভালো হয়।

আপনার সন্তানটি শিক্ষিত হয়ে দেশের একটি ভালো কর্ম ক্ষেত্রে ভালো ব্যক্তি হোক। তা না হলে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে যে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সে স্বপ্ন কিন্তু বাস্তবে রূপ নিবে না। তাই আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে মাদক ও জুয়ার বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালান। বিআরটিএকে বলবো লাইসেন্স ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হোন। সিটি কর্পোরেশন বলবো টার্মিনালগুলো ঠিক করতে । ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে । সড়ক ও জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করা। আমরা সবাই মিলে যদি একসাথে কাজ করি তাহলে সড়ককে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে। এবং কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একে অপরকে সহযোগিতা করবো।  তাহলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারবো।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ কোন কাজই করেনা। তার জন্যই সাইনবোর্ডে যানবাহনের মাতৃত্ব চাপ লেগে থাকে। সাইনবোর্ডের জ্যামের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয়। আমাদের জেলা পুলিশের সময় এতো জ্যাম ছিল না। আজই হাইওয়ে ডিআইজিকে চিঠি দেওয়ার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

আর শহরের চাষাঢ়া যানজটের মূল্যেই হল অনাবিল, মৌমিতা, বন্ধু পরিবহন।  এই সকল পরিবহনের অর্ধেকই নাই। বডি তো খোয়ে খোয়ে পরে। গাড়ির ভিতরে সিট নাই, গাড়ির সামনে মাথাভাঙ্গা। আমার মনে হয় এই বাসগুলোর কোন ফিটনেস নাই। সকল বাস গুলোর কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।  আমি এসপি সাহেব কে বলে দিচ্ছি আর স্টেডিয়ামের  সামনে ১০০ বাস রাখার ব্যবস্থা করে দিব। এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তবে উৎসব, বন্ধন, শীতল এ বাস এগুলা ঠিক আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল, নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ের পুলিশের এএসপি অমৃত সূত্রধর,

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর সার্কেল সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ আনুল হুদা চৌধুরী, মটরযান পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ তোয়াহা, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী মটরযান পরিদর্শক ফারদিন খান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক সোহেল আক্তার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের টাউন ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান, জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, নারায়ণগঞ্জ নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির সভাপতি ডা. আল ওয়াজেদুর রহমান, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শামসুজ্জামান প্রমুখ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x