দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকম: রমজানে বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। মাংসের উচ্চ দামে যেন স্বস্তি মাছেই মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তদের এবং মাছই উপযুক্ত মনে করছেন ।
বুধবার (২৯ মার্চ) শহরের প্রধান কাঁচাবাজার দিগুবাবুর মাছ বাজার ও পাঁচ নং মাছ ঘাটে দেখা গেছে এ অবস্থা।
দিগুবাবুর বাজার সহ জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায় মুরগি ও মাংসের উচ্চ দামে নার্ভিশ্বাস অবস্থায় মধ্যবিত্তরা। নাগালের মধ্যে তাদের কাছে মাছেতেই যেন স্বস্তি। তাই মুরগি ও মাংসের তুলনায় মাছ ক্রয়ে যেন ছুটছে তারা।
রমজান উপলক্ষে সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস সহ রমজানের নিত্যপন্যের প্রত্যেকটি পন্যেই বেড়েছে দাম। লাফিয়ে লাফিয়ে কাঁচাবাজার গুলোতে বাড়ছে দাম। যা নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষের অনেকটা নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। মাংসের বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায় রমজান উপলক্ষে মুরগি থেকে শুরু করে মাংসের দাম ৩০-১০০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে,সবজিতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, শসা ৩০ টাকা বেড়ে ৭০, কাঁচামরিচ ৩০ টাকা বেড়ে ১০০, লেবু হালিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৮০-১০০, পটোল ৩০ টাকা বেড়ে ৭০, ঢেড়স ৩০ টাকা বেড়ে ৮০, পেঁপে ১০ টাকা বেড়ে ৩০ ও টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে,কাঁচামরিচ ১২০ টাকা,শুকনা মরিচ ৫০০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, টমেটো ৩৫ টাকা,পটোল ও করলা ৮০ টাকা, ফুলকপি ও বাধাঁকপি ৩০-৩৫ টাকা পিস, গাজর ৩০ টাকা,ঢেড়স ৭০ টাকা,শশা ৩০ টাকা,বেগুন ৪৫-৮০ টাকা,চালকুমড়া ৪০ টাকা,লাউ ৩০ টাকা,সজনা ৭০-৮০ টাকা, জেলার বাইরে থেকে আসা সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি। দাম বাড়ায় চাহিদা মতো সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বেড়ে ৭৫০ টাকা,খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯০০-১১০০ টাকা,মুরগি কেজি প্রতি ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ -২৪০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ থেকে বেড়ে ৩৫০টাকা,দেশি মুরগি ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০-৬০০ টাকা,লেয়ার ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ ও সোনালি ৪০ টাকা বেড়ে ৩৬০ টাকায় কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, এছাড়াও একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছের দাম প্রকারভেদে কেজি প্রতি ১০০-২০০ টাকা। মাঝারি সাইজের ইলিশ কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার, বড় রুই দেড়শ টাকা বেড়ে ৫০০, ছোট রুই ১০০ টাকা বেড়ে ৩০০, চিংড়ি ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ও ছোট চিংড়ি দেড়শ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকা হয়েছে। তবে ছোট মাছ যেন নাগালের মধ্যেই রয়ে গেছে। ১৫০ টাকা কেজি থেকে শুরু করে ৪০০-৪৫০ টাকায় খুব ভালোই ক্রয় করতে পারছে ক্রেতারা। তবে ১৫০-২৫০ টাকা কেজি মাঝারি সাইজের মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি মাছ বাজারগুলো। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছে কাঁচামাল ও মাংস কম কিন্তু চাহিদা বেশি। তাই দাম বাড়ছে।
বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকুরী করা আমজাদ হোসেন বলেন,সবজি,মুরগি,মাংস বা মাছ সব কিছুর দাম বাড়লেও মাছ এখনো অনেকটা নাগালের মধ্যে রয়েছে আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে।মুরগি বা মাংসের দাম পূর্বে থেকেই বেশি এবং রমজান উপলক্ষে বেড়েছে আরেক দফা দাম এর বিপরীতে চাষের বড় আকারের যেকোনো মাছ ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি পাওয়া যায়। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এবারের রমজানে মাছের ওপরেই ভরসা করতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, দেশের অন্যান্য জেলার মতো প্রতি বছর রমজানের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। অনেক সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও দাম বাড়ানো হয়। এবারও দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিতে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা, মাছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা ও মুরগিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দাম বেড়েছে।
দুপুরে দিগুবাবুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে জেলা প্রশাসন থেকে যে নির্ধারিত দামে মাছ, মাংস ও মুরগি বিক্রি করার কথা বলা হয়েছে তা নির্ধারিত দামে হচ্ছে না বিক্রি।নির্ধারিত দামের তুলনায় ২০-৩০ টাকা সবজি আবার কোথাও মাংসের ৫০-১০০ টাকা এবং মাছে ৫০-৭০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে আগত কৃষক আজগর আলী বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টমেটো ১০ টাকা, লাউ আকার অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ টাকা, শসা ২০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যান। তবে তারা বাজারে এনে এগুলো দ্বিগুণ দামে খুচরা বিক্রি করেন।তাই নিজেই নিয়ে এসেছি নিজের ক্ষেতের চাষ করা সবজি বিক্রি করতে।
৫নং ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী দেলোয়ার বলেন, স্থানীয়ভাবে মাছের জোগান কম। এখানে চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পুকুরে চাষ করা বড় আকারের মাছ আসে। কয়েকদিন আগে এসব মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমরা কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা লাভ করি। তবে দেশি ও নদীর মাছের চাহিদা বেশি এবং জোগান কম হওয়ায় দাম সব সময় বেশি থাকে। দেশি শোল ৫০০ থেকে ৬০০, নদীর ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মাগুর মাছ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
শিবু মার্কেট এলাকার পরিবহন শ্রমিক গফুর জানান বলেন,আমাদের মতো পেশাজীবীদের অবস্থা ভালো না। মাছ, মাংস আমাদের কপালে জোটে না। আগে যেভাবে চলতাম, পবিত্র রমজানে সেভাবে চলেই রোজা রাখতে হবে।
রমজান শুরু আগেই জেলা প্রশাসক, পুলিস প্রশাসন, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহ একাধিক সংস্থা দফায় দফায় করেছে মিটিং রমজামে বাজার পন্য মূল্যের দাম সহনীয় রাখতে। বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে করেছে মিটিং বল হয়েছে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত কেউ নিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।