বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
প্রচ্ছদ বিশেষ সংবাদ কে হচ্ছে মহানগর যুবদলের অভিভাবক ?

কে হচ্ছে মহানগর যুবদলের অভিভাবক ?

দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ কে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের অভিভাবক ? এই প্রশ্ন এখন সংগঠনের তৃণমূল কর্মীদের মাঝে। গুনজন শুনা যাচ্ছে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে যে কোন সময় ঘোষনা আসতে পারে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির। তবে কমিটিতে স্থান পেতে মরিয়া যুবদলের নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে জোড় লবিং। আর এটা করতে গিয়ে কমিটি ভাগিয়ে আনতে একাধিক গ্রুপিং এর সৃষ্টি হয়েছে নিজেদের মধ্যে। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটবে আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পরেই।

এদিকে মহানগর যুবদলের বেশজোড়ে সোড়ে আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েক জন নেতা। যারা স্থান পাবে মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে। তবে আলোচনায় থাকা সকলেই কমিটিতে ঠাই পেলেও, গুরুত্বপুর্ন পদে আশি^ন হবেন মাত্র ৩ জন। বাকিরা থাকছেন যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য হিসেবে। আর এই তিন পদের মধ্যে আহবায়ক, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক ও সদস্য সচিব নিয়ে বার বার কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধন্না ধরছেন অনেকেই।

এদের মধ্যে আহবায়ক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন সাবেক ছাত্র দলের ত্যাগী নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, সাবেক মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, সাবেক মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান, সহ-সভাপতি নাজমুল হক রানা।

আর সদস্য সচিব হিসেবে নাম বেসে আসছে মাত্র ২ জনের। এরা হলেন, মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু।

এদিকে মহানগর যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, এবার টাকা দিয়েও গুরুত্বপুর্ন পদে আসতে পারবেন না কোন সুবিধাবাদী নেতা। কারন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল কমিটির বিষয় নিজে পযর্বেক্ষন করছেন। তাই আমরা আশাবাদী এবার মহানগর যুবদলের কমিটিতে ঠাই পাবে যোগ্য নেতারা।

এদিকে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ রয়েছেন বেশ এগিয়ে। অনেক দিন রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখলেও। বর্তমান ছাত্র দলের নেতাদের কাছে তিনি আইডল হিসেবে পরিচিত। ছাত্র রাজনীতিতে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা, শিক্ষাগত যোগ্যতায় রয়েছেন সবার দৃষ্টিতে।

অপরদিকে, সাবেক মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু এবার স্বপ্ন দেখছেন আহবায়ক হওয়ার। বিগত দিনে সরকার পতন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করে মামলা হামলার হয়েছেন একাধিকবার। সংগঠনের স্বার্থে বিগত কমিটিতে থাকা কালিন সভাপতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অন্যান্য নেতাদের নিয়ে। প্রকাশ্যে করেছেন সাবেক সভাপতি খোরশেদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময় কমিটি বিক্রির অভিযোগ। দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেছেন নেতাকর্মীদের নিয়ে।

এদিকে, মহানগর যুবদলকে নেতৃত্ব দিতে মুল দলের পদ ছেড়ে দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম সজল। বেশ কয়েক বছর মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। সময়ের প্রয়োজনে বিএনপির পদ থেকে পদত্যাগ করে যুবদলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনিও। তবে গুঞ্জান শুনা যাচ্ছে আহবায়ক পদে না আসলেও সদস্য সচিব পদে আশি^ন হচ্ছেন মনিরুল ইসলাম সজল। আর এটা প্রায় চুড়ান্ত হবার মত। বাকিটা সময়ের ব্যপার।

অন্যদিকে, মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধান যিনি একাই নিজের অবস্থান থেকে দলীয় কর্মসূচিগুলো পালন করেছেন কর্মী বাহিনী নিয়ে। দলের প্রয়োজন ছাড়াও বৈশি^ক মহামারি করোনার প্রার্দুভাবের পর সরকার ঘোষিত লকডাউনে ছুটে চলেছেন অসহায় মানুষের পাশে। নিজের অবস্থান থেকে কর্মী বাহিনী নিয়ে সহযোগীতা করেছেন আসহায় মানুষকে। বিগত দিনে সরকার পতন আন্দোলনে তার অবদানও চোখে পরার মত। দায়িত্ব নিয়ে চান মহানগর যুবদলের আহবায়কের।

অপরদিকে, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হক রানা যিনি দায়িত্ব চেয়েছেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক পদে। তবে দল ও সংগঠনের স্বার্থে সড়ে আসতে প্রস্তুত এই পদ থেকে। যুবদলকে শক্তিশালী করতে সব সময় কাজ করে যেতে চান নিঃর্স্বাথ ভাবে। তবে তিনিও থাকছেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে। আলোচনায় রয়েছেন বেশ জোড়ে সোড়ে।

এদিকে, সাবেক কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আশা মনোয়ার হোসেন শোখন। সরকার পতন আন্দোলন সংগ্রামে যার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি কখনই সুবিধা ভোগের আশায় মুলধারার রাজনীতি থেকে সরে আসেননি। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা চান যোগ্যতার বলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে। মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব পদের আশা করলেও সংগঠনের স্বার্থে সেই পদও ছাড়তে প্রস্তুত তিনি। তবে তাকে ছাড়া আহবায়ক কমিটি হচ্ছে না এটা অনেকটাই নিশ্চিত ভাবেই ধারনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু যিনি মামাদের জোড়ে সাবেক কমিটিতে গুরুত্বপুর্ন পদে আশি^ন হয়েছিলেন। তবে সেখানে নেই তার সংগঠনের জন্য কোন অবদান। দুই মামার জোড়ে যুবদলে আসলেও বর্তমান অনেকটাই ঘরকুণে নেতাদের তালিকায় রয়েছে সে। তবুও স্বপ্ন দেখছেন সদস্য সচিব হওয়ার। তবে ধারনা করা হচ্ছে সাংগঠনিক যোগ্যতার কাছে পরাজিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তার। থাকতে পারেন আহবায়ক কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক বা সদস্য পদে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x