দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকম: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মন্তব্যের বিপরীতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঝেড়েছেন বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদু। সম্প্রতি বিএনপির এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মূলত হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তন নিয়ে এই উত্তেজনা তৈরী হয়।
এনিয়ে বিবাদমান মন্তব্যের মধ্যে সবশেষ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব দাবী করেন ওসমান পরিবারের কাছে বন্ড সই দিয়ে রাজনীতি ছেড়েছিলেন বদিউজ্জামান বদু। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রমাণ দেখানোর জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন বদু।
হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, ‘আমি বিএনপিতে ছিলাম এবং আছি। আমার এমন কোন নজির নেই যে জোহা পরিবারের কাছে খত দিয়ে রাজনীতি ছাড়বো। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, আবু আল ইউসুফ খান যদি প্রমাণ করতে পারে তাহলে হোসিয়ারি সমিতির পদ ছেড়ে দিব। ও তো ছিলো সেলিম ওসমান আর শামীম ওসমানের মাসোয়ারাভুক্ত কর্মচারী। ও বিএনপিকে নষ্ট করছে।
তৈমূর আলমের শিষ্য সে। তৈমূর আলমের কাছ থেকে টাকা খাওয়া শিখছে। জোহা পরিবারের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। রেলওয়ে মার্কেট আমার হাতে গড়া। সেলিম ওসমান কাজলরে দিয়া আমার এই ঘরগুলো ভাংছে। এইটা নারায়ণগঞ্জে সবাই জানে। আমরা নারায়ণগঞ্জের লোকাল, আর টিপু আসছে চাঁদপুর থেকে। ওতো রাজনীতি করতে আসেনাই। আসছে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি করতে। ওর সাথে কিছু দালাল মিলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ধ্বংস করতাছে।
বিএনপির কমিটিতে তাকে না রাখার পেছনে তৈমূর আলম খন্দকার ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু দায়ী এমন মন্তব্য করে বদু বলেন, ‘এই টিপু একসময় আমাদের থেকে ২শ, ৩শ টাকা নিয়ে মিছিল মিটিং করছে। আজকে সে বড় বড় কথা বলে। এক তৈমূর আলম খন্দকার মীরজাফরি করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নষ্ট করছে। সে গত কমিটিতে আমাকে রাখে নাই। তৈমূর – টিপু আমাকে কমিটিতে রাখে নাই। আজকে আমাকে কেন কমিটিতে রাখা হয়নি? টিপু একটা বাটপার, চিটার, চাঁদাবাজ। এর প্রমাণ চাইলে আমি দিয়ে দিতে পারবো। বিএনপির অর্ধেক খেয়ে গেছে তৈমূর আলম, বাকি অর্ধেক খাইতাছে টিপু। তৈমূরকে যখন বহিস্কার করে, তখন তো তারেও বহিস্কার করার কথা। কেন তাকে বহিস্কার করা হয়নি আমি জানিনা।’
হোসিয়ারি সমিতি মিলনায়তন দখলে রাখার প্রসঙ্গে বলেন, ‘সে আমার হোসিয়ারি সমিতির কি? তাঁর কারনে ভাড়াটিয়ারা অনুষ্ঠান করতে পারেনা। মানুষরে সেখানে নিয়া মারধর করে। কেন এই শহরে আবার টর্চার সেল হবে। জোহা পরিবারের থেকে শিখছে টর্চার সেল বানানো। আমাদের আর কোন নেতা এই কাজ করে? সমিতি আমাদের, প্রতিষ্ঠান আমাদের, অথচ সে ব্যবহার করে। এটা কোন কথা? ঈদের পরে আমরা সবাই মিলে তাকে বের করে দিব। এখানে ঢুকতেই দিব না। প্রয়োজনে তালা মেরে রাখবো। কোন অপকর্মের জন্য আমরা কাউকে প্রশ্রয় দিব না।’