দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি জনসমর্থিত দল হিসেবে সকলের কাছেই পরিচিত বিএনপি। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করার অপরাধে দলটির নেতাকর্মীরা বহু মামলা হামলার শিকার ও জেলজুলুম সহ্য করেছে। যা দেশবাসী স্বচোঁখে দেখেছে, এর ফলে দলটির নেতাকর্মীদের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে অনেক বেশি।
এছাড়াও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ প্রদান করেছেন, আগামী নির্বাচনে দল তাকেই মনোনয়ন দিবে যার সাথে সর্বস্তরের জনগণের যোগাযোগ বা সর্ম্পক রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঘরকুনো কিছু বিএনপি নেতাদের সয়লাব হতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেকেই বিভিন্ন আসনে নির্র্বাচনে প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করছে। অথচ ৫ আগষ্ট হওয়ার পূর্বে রাজপথে দলের পক্ষে তাদের বিচরণ ছিলো শুন্যের কোঠায়। এছাড়াও ছিলো আওয়ামী সরকারের এমপি ও নেতাদের সাথে সখ্যতা। অথচ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার সাটিয়ে নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে তুলে ধরছেন।
এদিকে, দেশে নির্বাচনী হওয়া বইতে শুরু করায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বৈরাচার সরকারের আমলে গড ফাদার খ্যাত শামীম ওসমানের আসনে এবার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দল থেকে পদত্যাগ করা শিল্পপতি শাহ আলম, সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন এবং তরুন ও উদীয়মান রাজনীতিবীদ মশিউর রহমান রনি।
লক্ষ্য করে দেখা যায়, বিগত দিনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে শিল্পপতি শাহ আলমকে দেখা যায়নি। উল্টো দল থেকে পদত্যাগ করে তা মিডিয়াতে জোড়ালো ভাবে প্রচার করতে দেখা গেছে। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের ফেলে নিজের আখের গুছাতে কৌশলটা ভালভাবেই রপ্ত করেন এই শিল্পপতি।
অথচ ৫ আগষ্টের পর তার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি রাজপথে থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়েছেন বলে দাবি করেন দলের নেতাকর্মীরা। অথচ বর্তমান প্রচার প্রচারনা বা কোন কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত না থাকলেও থাকেন তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন তিনিও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন এবং এখনও চাইবেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি নারায়ণগঞ্জের ৩ আসনেও মনোনয়ন প্রত্যাশি এবং সেখানেই তিনি বেশি সময় দিচ্ছেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে মামলা হামলার শিকার হওয়া থেকে শুরু করে জেলজুলুম ছিলো তার জন্য নির্দিষ্ট স্থান। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদলের রাজনীতি তার জন্য কখনই সহজ হয়ে উঠেনি। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমানকেও তিনি ছিটে ফোটা ছাড় দেননি।
গত ৫ আগষ্টের পর থেকে অবিভাবক শুন্য ৪ আসনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটে বেড়াছেন মানুষের দুঃখলাঘবের জন্য। নিজের অর্থায়নে নানা উন্নয়ন মূলক কাজেও হাত বাড়াতে দেখা যাচ্ছে তাকে। ছোট থেকে বড় সকলেই তাকে পেলে আপন মনে করে নিজ এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন নির্ধিদায়।
এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মশিউর রহমান রনিও মনোনয়ন প্রত্যাশি আর সেই উদ্দেশ্যে এখন থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে নানা উন্নয়ন কাজে তাকে দেখা যাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় শেষ বেলায় কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের অবিভাবক।