দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা হওয়ার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি ইউনিট কমিটি গুলো। এর আগেও প্রায় এক বছর মনিরুল ইসলাম সজল আহবায়ক, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সাগর প্রধান এবং সাহেদ আহম্মেদকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। যা পরবর্তীতে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ আহবায়ক কমিটিতে রুপ পায়। যদিও দায়িত্বে থাকা কর্তাবাবুরা কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের দায়সারা কৌশল অবলম্বন করছেন। কিন্তু কমিটিতে থাকা অনেক নেতাই আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব সাহেদের ব্যর্থতার বিষয় অভিযোগ করছেন।
যুবদলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে হলে সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পুর্ণ নেতাদের দিয়ে বিভিন্ন থানার ইউনিট কমিটি গুলো ঘোষনা করা প্রয়োজন। যা দায়িত্বরত কর্তাবাবুরা বাস্তবে রুপ দিতে কারপন্যতা করছেন বলে তূণমূলের দাবি।
এ বিষয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের তূণমূল নেতাকর্মীরা দাবি করে আরও বলেন, আমরা বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহন করার অপরাধে স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের পেটুয়া বাহিনী মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আমাদের সাথে পরিবারের লোকজনও নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছে। তবুও কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি।
দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনে রাজপথে নিরলশ আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছি। কিন্তু ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দলের নেতাকর্মীদের রং এমন ভাবে পাল্টে গেছে। তাদের চরিত্র দেখে গিরগিটিও লজ্জা পায়। দলের দুঃসময়ে তারা আমাদের ফোন করে আন্দোলন সংগ্রামের কথা বলতো। আর এখন তাদের ফোন করে আমরা পাই না। দলের তৃণমূলকে মূল্যায়ণ করা না হলে ভবিষ্যত্বে দলের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।
তারা আরও বলেন, আমরা দল ও দেশের স্বার্থে কাজ করেছি এখন দল আমাদের মূল্যায়ন করবে। কিন্তু নিজেদের রামরাজত্ব ধরে রাখতেই পদ আকড়ে বসে আছে।
এদিকে,বিএনপি ক্ষমতার মসনদে বসার প্রায় সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। রাষ্ট্রপরিচালনায়ও বেশ প্রশংসা কুড়াছেন দেশবাসীর কাছ থেকে। এবার ঘড় সাজাতে ও তূর্ণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে সাংগঠনিক কাজে হাত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সুবাদে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় সকল কমিটির বিষয় বেশ নজরদারিতে রেখেছেন দলের হাই কমান্ড।
৫ই আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের পতনের পর চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজির মত নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত এবং আঙ্গুলফুলে কলাগাছে পরিনত হওয়া নেতাদের বিষয় খোজ খবর নিচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কারন এবার দেশ ও দল বাঁচাতে ত্যাগী নেতাদেরকে প্রধান্য দেয়ার বিষয় বিশেষ নজরদারী চলছে।
কেন দেওয়া হচ্ছে না মহানগর যুবদলের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গুলো জানতে চাইলে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, আমাদের একতিয়ার নেই যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ ছাড়া ইউনিট কমিটি দেয়ার। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পেলেই আমরা কমিটি দিতে পারবো।
সদস্য সচিব সাহেদ আহম্মেদ বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই আমরা ইউনিট কমিটি গুলো ঘোষনা করবো। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের কমিটি দিতে হবে।
সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান বলছেন ভিন্ন কথা তার ভাষ্য মতে, আমাদের সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারনেই কমিটি ঘোষনা করা হচ্ছে না। যাদের সাইনিং পাওয়ার দেওয়া হয়েছে তারা নিজেদের মনগড়া কমিটি দিতে চেয়ে ছিলো। এতে করে দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হতো তাই সেখানে আমরা বাধা প্রদান করায় কমিটি ঘোষনা করছে না বলে আমার ধারনা।