দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকম: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পিছনে মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটি নেতাদের তোড়জোড়ে আলোচনা সমালোচনা কমছে না। বরং দলের চেয়ে প্রার্থী বড় হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক যুবদল নেতা আমিনুর ইসলাম মিঠু।
তিনি ১৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নোংরামি বাদ দেন, দল করেন কিন্তু কারো কর্মচারী হয়েন না, যেদিন মনে হবে কোনো নেতা আমার সঙ্গে কর্মচারী সূলভ আচরণ করছে তখন সেই নেতাকে লাথি মেরে তার সংঘ ত্যাগ করে চলে আসবো। কারণ আমি দলীয় কর্মী কোনো নেতার বেতনভুক্ত কর্মচারী না এটা মনে রাখবেন। দলে নেতৃত্বের জন্য গ্রæপিং থাকবেই গ্রæপিংয়ের কারণে আমি অন্য গ্রæপের কারো সঙ্গে বসতে পারবো না চা খেতে পারবো না এমনটা যেনো কেউ না ভাবে। সাধু সাবধান……….।
মিঠু’র এমন পোষ্টে, ‘সহমত’ ও ‘শিল্পপতি দ্বারা মহানগর বিএনপি বিভাজন’ মন্তব্য করেছেন বিএনপি যুবদল সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ। এর আগে আমিনুর ইসলাম মিঠু আরেক পোষ্টে লিখেছিলেন, ‘এবার মন্ডপে মন্ডপে যারা টাকা দিয়েছেন পূজোর জন্য তারা কি এবার রমজান মাসে প্রতি মসজিদে মসজিদে ইফতারের জন্য টাকা দিবেন??’ এই পোষ্টের কমেন্টে বিএনপি কয়েক নেতা একতা প্রকাশ করলেও কয়েকজন রমজানে দান করতে ইচ্ছুক প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আহবায়ক কমিটির বেশিভাগ অংশ এখন মডেল গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদের অধিনে রয়েছেন। আরেকটি অংশ প্রাইম গ্রæপের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহম্মেদ বাবুলের সমর্থনে ও অল্প সংখ্যক নেতারা সাবেক এমপি আবুল কালামের দিক রয়েছেন। যার কারণে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের বিভিন্ন শো-ডাউন, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে নেতাদের লাইন দীর্ঘ হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহ জুড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন লক্ষ্যে ঘরে ঘরে ছুটছেন মহানগর বিএনপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থী সমর্থকরা।
এদিকে বিএনপি নেতা আমিনুর ইসলাম মিঠু জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মহানগর বিএনপিতে নেতাদের নিয়ে টানাটানি চলছে। শিল্পপতিদের নজর থাকতে নেতারা ঝুকঁছে, এর কারণে দলের চেয়ে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে প্রার্থীদের বিরুদ্ধ লাগাতার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে মহানগর বিএনপি শীর্ষ নেতারা। এতে করে নিজেদের দলের সুনাম ক্ষুন্ন ও প্রার্থীদের অধিনে ঘটনায় আগামীতে বিএনপিতে ফাটল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত দিনে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তাদেরকে পিছনে ফেলে মাত্র কয়েক বছরে আন্দোলনকারী এখন মাঠ গরম করে গলা ফাটাচ্ছে। সকলকে মনে রাখতে হবে, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন দলের জন্য কারা নির্যাতিত ত্যাগী সুবিধাভোগী নেতা-কর্মী ছিলেন। তাই সাধু সাবধান।