দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। বন্দরে এখন সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার চেয়ে ‘পুলিশি বাণিজ্য’ ও ‘তদবির সংস্কৃতি’ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি, যা বন্দরবাসীকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন আসার পর থেকে এলাকায় ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্র যেন ‘লাই’ পেয়ে গেছে। উপজেলার ব্যস্ততম বাজার থেকে শুরু করে নির্জন মোড়গুলোতেও দিনে-দুপুরে ছিনতাই হচ্ছে। গভীর রাতে বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে ডাকাত দল। কিন্তু পুলিশি টহল বা অপরাধীদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ কি জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত, নাকি অন্য কোনো কাজে?
থানা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, বর্তমান ওসির যোগদানের পর থেকে বন্দরে এক ধরণের ‘নিভৃত বাণিজ্য’ শুরু হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি, রাজনৈতিক মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং অপরাধীকে আটকের পর গোপন লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকের আখড়া ও অবৈধ গ্যারেজগুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের কারণেই সেসব আস্তানায় কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।
ইস্পাহানী বাজার, একরামপুর এবং বন্দর খেয়াঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর বন্দরে চলাফেরা করা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। ছিনতাইকারীদের অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব হারানো নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু থানায় অভিযোগ করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় অথবা ওসির সাথে ‘আলোচনা’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একজন ওসির মূল দায়িত্ব এলাকায় শান্তি রক্ষা করা, ব্যবসা করা নয়। ওসির রহস্যজনক নীরবতা এবং পুলিশের এই ‘বাণিজ্যিক’ মনোভাব অপরাধীদের মনে সাহস যোগাচ্ছে।