# ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে আগামী রাজনীতি কঠিন পরিস্থিতিতে পরবে: কালাম
# এটার কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হয়েছে: সাখাওয়াত
# তাকে জয়ী করে আনা সহজ হবে না: বাবুল
# দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আহবান করবো নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন বাচান: টিপু
# আমাদের মধ্যে যে কাউকে দিয়ে নির্বাচন করালে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ হবে: আশা
দ্যা বাংলা এক্সপ্রেস ডটকমঃ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে ৫ আসনের প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে নয়া মেরুকরন। দল ও স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থে বহুদিনের বিভেদ ভুলে রাজপথের সক্রিয় ও স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার প্রথম সারির নেতারা এক টেবিলে বসেছেন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে ব্যবসায়ি মাসুদুর রহমান মাসুদকে দল থেকে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষনা করার পর। স্থানীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে ভোটাদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রীয়া।
তবে বেজায় খুশি বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট সমর্থকরা। কারন গত দুই মাস পুর্বেও মাসুদুর রহমান মাসুদ ছিলো না বিএনপির সাধারণ সদস্যও। তাছাড়া বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তাদের সাথে সর্ম্পক রেখে নিজের ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রথম সারির পাঁচ নেতা স্থানীয় রাজনৈতিক ভাটা ঠেকাতেই বিভেদ ভুলে নড়েচড়ে বসেছেন।
শনিবার ১৫ নভেম্বর নাটকীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড. আবু কালাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসফ খান টিপু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাউছার আশা সহ মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই একই টেবিলে বসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সে সময় উপস্থিত ছিলো মহানগর বিএনপির কমিটির প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা থেকে শুরু করে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতাকর্মীরা।
এসময় মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মনের ভাব প্রকাশ পায় প্রথম সারির পাঁচ নেতাকে একত্রে দেখে।
একাধিক বারের সাবেক সাংসদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড. আবু কালাম বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন চাই। আমাদের দেশ নায়ক তারেক রহমান বলেছেন আগামী নির্বাচন কঠিন, আমরা এখানে যারা বসে আছি সবাই রাজপথে মামলা হামলা, জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের নেত্রী ও তার পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন, আমাদের আগামীর রাষ্ট নায়ক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হয়ে এখনো দেশের বাইরে আছেন। স্বৈরাচারী সরকার তবুও বিএনপির রাজনীতিকে ধ্বংস করতে পারেনি।
তাই এটাকে ধরে রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে হবে। এখন যদি ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে আগামী রাজনীতি কঠিন পরিস্থিতিতে পরবে। কারন ত্যাগী নেতাদের রাজনীতি থেকে অনিহা চলে আসবে। তাই আগামী নির্বাচনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। ত্যাগীদের মধ্যে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ নিয়ে তার পক্ষে কাজ করবো।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও নেতাকর্মী বান্ধব দল। আমাদের মূল লক্ষ্য এই এলাকার ভোটার ও নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচন। সেই মুর্হুতে গত ৩ নভেম্বর দলের মহাসচিব ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন এটা যেকোন সময় পরির্বতন হতে পারে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যাকে প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে সেটা আমাদের চিন্তায়ও আসেনি।
এটার কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরন হয়েছে। কারন বিগত দিনে দলীয় কোন কর্মকান্ডে আমরা তাকে পাইনি। আমরা দলের হাই কমান্ডে দরখাস্ত করেছি দলের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে যাকে দেওয়া হউক আমরা মেনে নিবো। আর যাকে দেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের আমলে আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে তিনি ব্যবসায়িক ফায়দা লুটেছেন। তাকে আমরা মেনে নিবো না। আর তাকে পাশ করাটাও সম্ভব না।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল বলেন, এই আসনটি আমাদের থাকুক এটাই আমরা চাই। এই আসনটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। কিন্তু যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে ভোটার ও নেতাকর্মীরা চিনেন না কারন তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো না। ফলে তাকে জয়ী করে আনা সহজ হবে না।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, র্দীঘ দিনের পরিক্ষিত নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিৎ। আমাদের দেশনেত্রী বলেছেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও, আমি বলবো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বাঁচাও। আমরা আশাকরি মামলা-হামলার শিকার জনসমর্থিত নেতাদের প্রার্থী বানাবে। আমি দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে আহ্বান করবো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন বাঁচান। বড় ভাই বা বাবার কাছে যেমন দাবী থাকে ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে বাঁচানোর দাবি জানাচ্ছি। তাই আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও হাই কমান্ডের কাছে আহ্বান করবো রিভিউ করে নতুন করে বিবেচনা করেন। ত্যাগী যাকে দিবেন আমরা তার হয়ে কাজ করবো।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাউছার আশা বলেন, ছাত্র দলের সবচেয়ে কণিষ্ঠ কর্মীটাও ফ্যাসিস্টের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এখানে যারা উপস্থিত আছি আমরা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এক সাথে পলাতক থেকেছি, এক সাথে প্রিজন ভ্যানে উঠেছি, এজলাসে উঠেছি, কারাগারে থেকেছি আবার রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমাদের মধ্যে যে কাউকে দিয়ে নির্বাচন করালে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ হবে। কিন্তু কোন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হলে কেউ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে না। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করা রাজপথের লোক রাজনৈতিক কৌশলগত কারনে আমাদের বিভেদ থাকতে পারে কিন্তু দিন শেষে দলের স্বার্থে আমরা সবাই এক হয়ে যাই। কিন্তু কোন অরাজনৈতিক ব্যক্তি সেটা কখনোই করতে পারবে না। তাই আশাকরি দল অবশ্যই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে।